শাকিব খান তান্ডব সিনেমা ২০২৫

নব্বই ও নব্বইয়ের দৃষ্টিতে ঢালিউডে এক নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে আসা শাকিব খান এবার হাজির হয়েছেন ‘তাণ্ডব (Taandob)’—ঈদুল আজহার মরশুমে ২০২৫ সালের ৭ জুন প্রিমিয়াম মুডে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি রাজনৈতিক-অ্যাকশন থ্রিলার ছবি। পরিচালক রায়হান রাফীর হাত ধরে টানা অবদান ও নাটকীয় টুইস্টগুলোর সমন্বয়ে ছবিটি শোবিজে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। চলুন, বিশদে দেখি বিষয়গুলো—

গল্প ও থিম

বাঙালি যুবক স্বাধীন (শাকিব খান) গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে চাকরি খুঁজতে; ২২টি ভাইভা ইতিবাচক হয়নি, বিয়ে বাধ্যতা আর স্বপ্ন তাকে বোঝতে চাপিয়ে দিচ্ছে। গল্পের মনোভাব অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বদলে যায়, যখন তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন গুম হওয়া ব্যক্তিদের গোপন এক গ্রুপের সঙ্গে।
■ গল্পের প্রধান বিষয়:

  • বেকারত্ব ও অবিচার
  • মানবাধিকার লঙ্ঘন
  • গণমাধ্যম ও দুর্নীতির ইস্যু
    ■ তাই, মেনস্ট্রিম “চোখে-জলের” গল্পের চেয়ে বেশি গভীর; একে বলা যায় আধুনিক বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতির প্রতিফলন।

শুটিং ও প্রোডাকশন

  • জোড়া প্রযোজনা: বাংলাদেশি Alpha-i ও ভারতের SVF এর যৌথ উদ্যোগ।
  • আনুষ্ঠানিকভাবে শাকিবকে যুক্ত করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ।
  • মার্চের ২৪ তারিখে শুরু হয় মূল শুটিং, চলতি এপ্রিলের শেষে শুটিং ৭০% সম্পন্ন হয় ।
  • ছবির কিছু সিকুয়েন্স শুট করা হয় শ্রীলঙ্কায়, বিশেষ করে গান ও ক্লাইম্যাক্স সিকুয়েন্স ।
  • রায়হান রাফীর সঙ্গে শাকিবের যাত্রা বিগত ছবির (যেমন ‘তুফান’, ‘প্রিয়তমা’) ব্যবসায়িক সফলতার ধারাবাহিকতা।
  • শুটিং সেটে দুঃখজনকভাবে একজন স্টান্টম্যান হৃদরোগে মারা যান, যা সিনেমা নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলে ।

অভিনয় ও চরিত্র

শাকিব খান

স্বাধীন চরিত্রে তিন দশকের অভিনয় জীবন থেকে উঠে এসেছে একটি নতুন দিক: সুক্ষ্ম প্রতিক্রিয়া, আবেগ প্রকাশে ড্রামা নয়; বরং থ্রিলার অভিনয়ে মানিয়ে যাওয়া।

“শাকিবের ডায়ালগ বলার ধরন, সংলাপের মধ্য দিয়ে ক্ষোভ–আবেগ প্রকাশ … কোনো দৃশ্যে এখন আর বাড়তি অভিনয় মনে হয় না।”

সাবিলা নূর ও জয়া আহসান

  • সাবিলা নূর: নতুন ধারার নায়িকা, যা থেকে বেরিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এক্সপ্রেশন, উপস্থিতি ও নাচের মাধ্যমে।
  • জয়া আহসান: সাংবাদিক চরিত্রে সামাজিক বিবেক তুলে ধরেছেন, তাঁর সংলাপ যেমন “আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা, কিন্তু আপনি নিজেই আইন উপেক্ষা করছেন” দর্শককে প্রশ্ন করে।

পার্শ্বচরিত্র

অ্যাফজল হোসেন, শহীদুজ্জামান সেলিম, গাজী রাকায়েত, আফরান নিশো ও সিয়াম আহমেদদের উপস্থিতি গল্পে গভীরতা আনে।

ভিজ্যুয়াল ও এডিটিং

বাস্তব রাজধানীর দৃশ্য ও শ্রীলঙ্কার দূরবীণ ক্যামারায় সিনেমাকে এক আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে তুলেছে। “মাঙ্কি মাস্ক” ধরা টিজার, সত্যিকারের থ্রিলার অনুভূতি তৈরি করেছে।

“ননলিনিয়ার উপস্থাপনা ভালো লেগেছে… নতুনত্ব দরকার ছিল, আর তা পাওয়া গেছে” ।

জনপ্রিয়তা ও টিকিট

  • “টিজার প্রকাশের একদিনেই ১০ মিলিয়ন ভিউ” – সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে।
  • মুক্তির মাত্র ১০ দিন পার হয়নি, গেল৳৫ কোটি ব্যবসার आंकড়ায় পৌঁছেছে – ১৮ জুন পর্যন্ত।
  • বিনিয়োগ ও সীমিত সিনেমাহলের সংখ্যা (১৩২টি) থাকা সত্ত্বেও দারুণ অভিষেক।

সমালোচনা ও শক্তিশালী লাইন

পজিটিভ:

  • আকর্ষণীয় গল্প, উন্নত ছবি, অদ্ভুত টুইস্টে সিরিয়াস থ্রিলার।
  • শাকিব–রাফীর জুটি পুরনো কথায় ফিরে এসে নতুনত্বও নিয়ে এসেছে।
  • মানবাধিকার, দুর্নীতি ও সরকারের অন্ধকার চিত্র তুলে ধরেছে।

নেগেটিভ:

  • মাঝে মাঝে গল্প কিছুটা ধীর ও সিম্পল মনে হতে পারে ।
  • খানিক হালকা বা জাস্টিফাই করা গান মাঝে মাঝে আবেগে পানি ফেলে ।

‘তাণ্ডব’ শুধুমাত্র বিনোদন নন, একটি বাংলাদেশি ছবি যা সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে

  • ড্রামা থেকে থ্রিলারে রূপান্তর, রায়হান-শাকিব জুটির নতুন চ্যাপ্টার।
  • মেট্রো শহরের অন্ধকারে অপ্রত্যাশিত বিপ্লবের রূপ।
  • সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—“আইনের রাজ্য, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা”—যা এই ছবিকে দারুন এক প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশের সিনেমাহলে কিছুদিন ধরেই পরিবারমুখো ছবির গণ্ডিতে আটকে থাকলেও ‘তাণ্ডব’ একটি নতুন ট্রেন্ড আনতে পারে—বুদ্ধিদীপ্ত, সাহসী ও প্রেরণাদায়ক স্থানীয় থ্রিলারই যেন ক্রমাগত জায়গা করে নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *